লোহাগড়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দুর্দশা চরমে

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

লোহাগাড়া উপজেলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দুর্দশা এখন চরমে। খেয়ে না খেয়ে কাটছে এসব ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দিন।

স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষজন স্বর্ণের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগররা। আগের মতো আর অর্ডার আসছে না।

কাজ কমে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন স্বর্ণ শিল্পীরা অর্থাৎ কারিগররা। স্বর্ণ ব্যবসায় দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। বাধ্য হয়েই অনেকে পেশা বদল করছেন।

লোহাগড়া বাজারে স্বর্ণপট্টির ব্যবসায়ীরা জানান, 'সম্প্রতি দেশে স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে। স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গহনা বানানোর অর্ডার কমে গেছে। উৎসব- অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে এখন আর কেউ স্বর্ণের গহনা দেয়ার কথা ভাবতে পারছেন না। এখন প্রতি ভরি স্বর্ণ (২১ ক্যারেট) বিক্রি হচ্ছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকায়। আর ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকায়। স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

লোহাগড়া উপজেলা জুয়েলারী এসোসিয়েশনের সভাপতি সজল সাহা ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল পোদ্দার কালু বলেন, লোহাগড়া বাজারে প্রায় ৪৫টি সোনার দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক দোকান রয়েছে।

স্বর্ণের দাম এতো বাড়বে তা কেউ ভাবতে পারে নাই। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডলার ও টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ায় স্বর্ণের দাম বাড়ছে বলে জানান তারা।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে , 'আগে যেখানে মানুজন বিয়ে-শাদিতে কমপক্ষে পাঁচ ভরির মধ্যে একসেট গহনা তৈরী করতো, এখন তা আড়াই অথবা তিন ভরির মধ্যে বানানোর অর্ডার দিচ্ছেন। কেউ কেউ আরও কম সোনা দিয়ে গহনা তৈরীর অনুরোধ করছে।

লোহাগড়া বাজারের জননী জুয়েলার্সের মালিক বিকাশ কর্মকার, মনসা জুয়েলার্সের মালিক প্রবীর চৌধুরী, অনিক জুয়েলার্সের মালিক অনুপ স্বর্ণকারসহ স্বর্ণপট্টির বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, 'সোনার দাম হু হু করে বাড়ছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষজন এখন আর স্বর্ণের গহনা ব্যবহারের কথা ভাবতে পারছেন না। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার জন্য রেডিমেট আংটি, চেইন, কানের দুল স্বর্ণের দোকান গুলোয় বিক্রি হতো। সোনার দাম বাড়ার কারণে সেসবের বিক্রিও কমে গেছে। স্বর্ণের গহনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে ইমিটেশন আর মধ্যবিত্তের কাছে সিটিগোল্ড ভরসা। সিটি গোল্ডের গহনাতে এসেছে নতুনত্ব ও চমক। চোখ ধাঁধানো ডিজাইন অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণের গহনাকে হার মানাচ্ছে। পরখ না করলে বোঝার উপায় নেই স্বর্ণ না সিটিগোল্ড।

দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের দুর্দশা বেড়েছে। বিশেষ করে কারিগররা কাজ না পেয়ে ক্রমেই বেকার হয়ে পড়ছেন।

কথা হয় স্বর্ণের কারিগর জয়পুর গ্রামের দেবাশীষ স্বর্ণকার, কাড়ালপাড়ার বকুল বিশ্বাস, দিঘলিয়ার প্রবীর রায়, বসুপটি গ্রামের পংকজ বিশ্বাস বলেন, 'সোনার দাম বেড়েই চলেছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো কেনাবেচা নেই। কাজ কমে যাওয়ায় আয় রোজগার কমে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশার মানুষজন পেশা বদল করতে বাধ্য হবে।

 

 

Link copied!