পঞ্চগড়ে রাতের আঁধারে বিষ দিয়ে ফসলের মাঠ ধ্বংস

আল মাহমুদ দোলন , পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় রাতের আঁধারে প্রায় ৩০১ শতক জমির ভুট্টা, মরিচ ও বেগুনক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর এলাকায় লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিশাল সংখ্যক বাহিনী দ্বারা এই ফসলহানি কার্যক্রম চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নজরুল ইসলাম ও মফিজুল ইসলামের পরিবার এ নিয়ে বোদা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশালশিরি ইউনিয়নের আরাজী শিকারপুর মৌজার ১৪টি দাগে মোট ৩০১ শতক জমি পৈতৃক ও ক্রয় সূত্রে দীর্ঘ ৬০-৭০ বছর ধরে মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম ভোগদখল করে আসছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করে আসছেন, জমির খারিজ করে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করছেন এবং চলমান আরএস রেকর্ডভুক্তও হয়েছেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মানুষজনের ইন্ধনে খয়রুল, জিয়াউর, তাহিরুল, শহিদুল, বিপ্লব, রাজু, জহিরুল, তাজু কাজিমুল, দেলোয়ার, হামিদুল, ইসমাইল সহ তাঁদের লোকজন জমিগুলো জোরপূর্বক অবৈধভাবে নিজেদের দাবি করে জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও ইতিপূর্বে তাঁরা জমিগুলো বিক্রি করেছেন এবং তাঁদের প্রাপ্য হিস্যার অতিরিক্ত জমি বিক্রি করেছেন। পরবর্তীতে জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে নানা সময় খয়রুল সহ তাঁদের পক্ষের লোকজন হত্যার হুমকি দিতো। এ নিয়ে আদালতে মামলা দায়েরও রয়েছে এবং বাটোয়ারা মামলার রায় মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামদের পক্ষে এসেছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ জমিতে ট্রাক্টর নিয়ে চাষাবাদ করতে গেলে খয়রুল, রফিকুল, জিয়াউর সহ তাঁদের লোকজন মফিজুল ইসলাম, তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা করে বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, লুটপাট চালায়। এসময় ১০ লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার লুটপাট করে এবং প্রায় ৭৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।

এরই মাঝে মফিজুল ইসলাম ও তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হলে তাঁদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পরে চলতি বছরের ২০ মার্চ রাতের আঁধারে মফিজুল ইসলামের দুই শতাধিক সুপারি গাছের চারা কোদাল ও দা দিয়ে কেটে ধ্বংস করে দেয় অভিযুক্তরা। এছাড়া, চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল রাতে ৩০১ শতক জমির ভুট্টা, মরিচ ও বেগুনক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করে ধ্বংস করেছে অভিযুক্তরা। বর্তমানে মফিজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামকে মসজিদে নামাজে যেতেও হত্যা সহ নানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা আমাদের বৈধ জমিতে সঠিকভাবে চাষাবাদে যেতে পারছি না খয়রুল সহ কতিপয় দুর্বৃত্তের কারণে। এখন নামাজে যেতেও তারা মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। এছাড়া বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রায় ১০ বিঘা কৃষি জমি গত এক বছর ধরে পড়ে আছে। জমিতে চাষাবাদ করতে গেলেই তারা ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও চাষাবাদে বাধা প্রদান করছে।”

অভিযুক্ত খয়রুল ইসলাম জানান, “জমিগুলো আমাদের। আমরা কেন ওষুধ দিতে যাবো? আমাদের প্রতি যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সত্যি নয়। আমরা কাউকে হুমকি দিচ্ছি না।”

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মফিজুল ও নজরুলদের জমি নিয়ে অপর পক্ষের সাথে মামলা চলমান রয়েছে। ফসলি জমিতে কারা বিষ প্রয়োগ করেছে যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Link copied!