নওগাঁ মান্দায় বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে দীর্ঘ এক যুগ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুটি গ্রাম হাজারো মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শত শত হেক্টর ফসলে জমিরসহ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এসব এলাকার বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ নিরসনে সংস্কারের আশ্বাস দিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু। উপজেলার ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কয়লাবাড়ি ও কর্ণভাগ গ্রাম রক্ষা বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে দীর্ঘ এক যুগ যোগাযোগ ধরে বিচ্ছিন্ন দুটি গ্রাম, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ইশতেহার কিংবা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না, রোদ বৃষ্টি কিংবা বর্ষায় সীমাহীন ভোগান্তিতেই থেকে যায় দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও মিলেনি কোন প্রতিকার। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় ২০১৫ সালের আকস্মিক বন্যায় ভেঙে যায় কয়লাবাড়ি ও কর্ণভাগ গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ। এই বাঁধ-ই দুই গ্রামের কৃষি পণ্য বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং নির্মাণ সামগ্রী পরিবহনের একমাত্র পথ।
গ্রামের রয়েছে কয়লাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্ণভাগ উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী রাস্তা না থাকায় চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হয়। মাঠ থেকে কৃষকের ফসল বহন করা কষ্টকর। কেউ অসুস্থ হলে সহজে চিকিৎসার জন্য কোন যানবাহন যাওয়ার মত কোন পথ নেই ফলে প্রতিনিয়তই বিনা চিকিৎসায় অসুস্থ রোগী মারা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলী বলেন-দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তাতে ভেঙ্গে দয়াল দশায় পরিণত হয়েছ। দুটি গ্রামের কোন সাইকেল রিক্সা ভ্যান মোটরসাইকেল সহ কোন যানবাহন চলাচলের কোন সুযোগ নেই তাই আমরা পায়ে হেঁটেই চলাচল করি বর্ষাকালে নৌকায় খরা মৌসুমে ধানি জমির আইল বেয়ে। কর্ণভাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ওমর ফারুক বলেন- ছোটবেলা থেকেই দেখছি এই রাস্তাটি ভাঙ্গা অবস্থায় আছে আমরা খরা মৌসুমে কাঁদাযুক্ত ধান ক্ষেতের ভিতর দিয়ে এবং বর্ষা মৌসুমে নৌকায় স্কুলে যাতায়াত করি। এই ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে পথ চলতে গিয়ে অনেক সময় পিছলে পড়ে জামা কাপড় নষ্ট হয় বই পুস্তক ভিজে যায় এবং নৌকা জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লাসও মিস হয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম গোলাম আজম বলেন-বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মাসিক সমন্বয় মিটিং এ আলোচনা করা হলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি এটা খুবই দুঃখজনক নতুন এমপি মহাদয়ের কাছে আকুল আবেদন এই রাস্তাটির সংস্কার করা হলে দুটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন- বিষয়টি নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলাপ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু বলেন- জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে টিআর /কাবিখা প্রকল্পের মাধ্যমে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে। যাতে জনগণের কোন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।
আপনার মতামত লিখুন :