ভর্তুকির হারভেস্টারে অতিরিক্ত ভাড়া, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কটিয়াদী: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। দুই মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক মিলছে না। অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকিতে দেওয়া হারভেস্টার মেশিনে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে পাকা ধান থাকলেও সময়মতো কাটতে না পারায় বাড়ছে ক্ষতির আশঙ্কা।

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে অনেক জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও আবার অতিরিক্ত পেকে ঝড়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই কৃষক হারভেস্টার মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হারভেস্টার মালিকেরা হাঁকাচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সরকার নির্ধারিত ভাড়া বিঘা প্রতি ২৫০০ টাকা হলেও কৃষকদের গুনতে হচ্ছে ৩৫০০-৪০০০ টাকা। চাহিদা বেশি থাকায় দরদাম করার সুযোগও পাচ্ছেন না কৃষকরা।

এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে গড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ প্রতি বিঘায় গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও, প্রতি মণ ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বৃষ্টির কারণে ধানের ক্ষতি হচ্ছে। শ্রমিক সংকটে সময়মতো কাটতে পারছেন না। হারভেস্টার আনতেও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। প্রতি বিঘায় ৪-৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। কৃষিই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস, কিন্তু এভাবে চললে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কৃষিতে শ্রমিক সংকট দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নিয়েছে। তাই যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। তবে এর সুফল পেতে হলে ভর্তুকির সঠিক বাস্তবায়ন এবং হারভেস্টারের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টির কারণে হাওর অঞ্চলের প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলাতে ২৭টি হারভেস্টার মেশিন চলমান রয়েছে।

অতিরিক্ত ভাড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন ভাড়া নিয়ে কথা বললে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদি কোনো কৃষক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমাদের কাছে নিয়ে আসেন, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার কাছে কতটি হারভেস্টার মেশিন রয়েছে তার কোনো তালিকা দিতে পারেননি। স্থানীয় কৃষিবিদরা বলছেন, উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি থাকলে এবং ব্লক সুপারভাইজাররা মাঠে আসলে কৃষকের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

Link copied!