টাঙ্গাইলে ৪.৫৫ কোটি টাকার সেতু উদ্বোধনের আগেই অ্যাপ্রোচে ফাটল

এস আই মাহফুজ , টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই এর অ্যাপ্রোচে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের সৈদামপুর বাজারে সেতু উদ্বোধনের আগেই অ্যাপ্রোচে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টির শুরুতেই ফাটল আরও বাড়ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আরও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হলে সেতুর অ্যাপ্রোচসহ সংযোগ সড়ক ধসে পড়বে।

বাসাইল উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাছেদ প্রকৌশলী বাসাইল উপজেলার সৈদামপুর বাজার-কুরাতলী ভায়া প্রাইমারী স্কুল সড়কে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল শুরু হয়। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সেতুর নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান বলেন, "এই রাস্তায় যখন মাটি ফেলা হয় তখন তেমন পেটানো হয়নি। রোলার দিয়ে ভালো করে পেটানো হলে ফাটল ধরতো না। হালকা পেটানো দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে, যার কারণে তাড়াতাড়িই ফাটল ধরেছে।"

শ্যামল সূত্রধর বলেন, "সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির ফলে ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কে ভালো করে মাটি রোলিং করা হয়নি। ভালোভাবে রাস্তার কাজটি করা উচিত ছিল।"

ননী গোপাল সরকার বলেন, "রাস্তার কাজ দেড় থেকে দুই মাসেই ফাটল ধরেছে। আরও কয়েকদিন বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।"

বাছেদ প্রকৌশলীর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নুর নবী এ বিষয়ে বলেন, "সেতুর অ্যাপ্রোচে ব্লকের কাজ চলমান ছিল। বৃষ্টির কারণে ব্লকের কাজ শেষ করতে পারিনি। নতুন মাটিতে কার্পেটিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং মাটি বোঝাই গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় সেতুর অ্যাপ্রোচে কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেখান দিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।"

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, "বাসাইলের সৈদামপুরে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর অ্যাপ্রোচে কাজ চলমান রয়েছে। সেতুর অ্যাপ্রোচে কিছু অংশে ব্লক বসানো হয়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে, যার জন্য সেতুর অ্যাপ্রোচে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই সেতুর কাজ করছে বাছেদ প্রকৌশলী। তাদের সাথে কথা হয়েছে, তারা ভাঙন জায়গা ঠিক করে দিবে। সেতুর কাজের এখন পর্যন্ত বিল প্রদান করা হয়নি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা হয়েছে, তারা মেরামত করে দিবে।"

Link copied!