ধামরাইয়ে ‘মাটিখেকো’দের তাণ্ডব: ফসলি জমি ধসে নিঃস্ব কৃষক, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১১ মে, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসবে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার নান্না ইউনিয়নের নান্না মৌজার দেলদার ও চাওনার চকে গভীর গর্ত করে মাটি তোলায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ধসে পড়ছে। এতে পাকা ধান ও টমেটো ক্ষেত হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার এই ভূমিদস্যুতার শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাওনার চকে রশিদ এবং দেলদার চকে মাসুদ নামে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে নিচ্ছেন। মাটির তলদেশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পাশের শত শত বিঘা আবাদি জমি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, চোখের সামনে তাদের সারা বছরের আহারের সংস্থান মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমির পাশাপাশি স্থানীয় রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িও এখন ধসের মুখে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছে। প্রতিবাদ করলে দেয়া হচ্ছে হুমকি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু পরিবারগুলো আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। প্রভাবশালীরা আমাদের কথা শুনছে না, প্রশাসনেরও দেখা নেই। আমরা এখন কোথায় যাব?”

ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী মাসুদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত রশিদ দম্ভোক্তি করে বলেন, “ধামরাইয়ের ইউএনওকে গিয়ে বলেন।”

এবিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, লোকেশন দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, অচিরেই মাটি ব্যবসায়িকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

প্রশাসনের এই নিরব ভূমিকাকে ভূমিদস্যুরা তাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হলে ধামরাইয়ের পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। কৃষিজমি রক্ষা ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।

Link copied!