লোহাগড়ায় আধুনিক কৃষি এগ্রো ফার্ম বন্ধের অপচেষ্টার অভিযোগ

রাসেদুল ইসলাম , লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার মোচড়া গ্রামে গড়ে ওঠা “প্রাইড এগ্রো বিডি ফার্ম” নামে একটি আধুনিক কৃষি প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি মহলের বিরুদ্ধে। প্রায় ২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই কৃষি ফার্মটি চার বছর আগে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে স্থানীয় কিছু কৃষকের আপত্তি ও অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোচড়া এলাকার একাধিক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, এগ্রো ফার্মের কারণে তাদের মাঠে যাতায়াতের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং কৃষিকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এসব অভিযোগ তুলে তারা ইতিপূর্বে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

তবে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসীর একটি অংশ। স্থানীয়রা জানান, কৃষিজমিতে যাতায়াতের সুবিধার্থে ওই এলাকায় দুই পাশ দিয়ে পৃথক দুটি রাস্তা রয়েছে। ফলে চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন। 

এদিকে অভিযোগকারীরা দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিরোধ বা জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রাইড এগ্রো বিডি ফার্মের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি চার বছর আগে এই এগ্রো ফার্ম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি এবং কেউ কেউ স্বেচ্ছায় লিজও দিয়েছেন। আমি জোরপূর্বক কারও জমি দখল করিনি কিংবা কাউকে বাধ্য করিনি। যারা এখন বিভিন্ন অভিযোগ দিচ্ছেন তারা শুরুতে কেন দেননি? এখানে স্পষ্ট বোঝা যায় একটি প্রবশালী মহলের উস্কানিতে কৃষকরা এখন এগুলো করছেন। আমার এবং আমার ফার্মের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

তিনি আরও বলেন,“ওই এলাকায় যদি কোনো ধরনের জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে আমি ওই জলাবদ্ধতা নিরসন করার ব্যবস্থা করব।

 এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, “মানববন্ধনের ঘটনার পর আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এছাড়া সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। খুব শিগগিরই দুই পক্ষকে নিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আধুনিক কৃষি উদ্যোগ ও স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সমাধান প্রয়োজন। এতে যেমন এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, তেমনি সাধারণ কৃষকদের উদ্বেগও দূর হবে।

 

Link copied!