রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের ১০ দিন পর এক নারী ও তার চার বছর বয়সী শিশু কন্যার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি কলাবাগান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশুকন্যা সামিয়া আক্তার (৪)।
জাহানারা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর কর্নেশনা এলাকার লুৎফর সওদাগর পাড়ার আমজাদ শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ওই কলাবাগানের পাশে ছাগল চড়াতে গিয়ে রোকেয়া বেগম নামে এক নারী মাটির নিচে চাপা দেওয়া মানুষের পা দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং পুলিশে খবর দেয়। এলাকাটি দুই জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ফরিদপুর সদর থানা ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযানে সহায়তার জন্য সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকেও খবর দেওয়া হয়।
নিহতের স্বামী আমজাদ শেখ জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকার আমিন বাজারের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় তার স্ত্রী জনৈক এক যুবকের সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশও হয়েছিল।
গত ৪ মে গ্রামের বাড়িতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে জাহানারা তার মেয়েকে নিয়ে নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর গত ৬ মে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। আমজাদ শেখের অভিযোগ, পরকীয়া প্রেমিকের হাতেই তার স্ত্রী ও সন্তান নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম ও ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলটি ফরিদপুর জেলার সীমানায় হওয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :