টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেওএম তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন যাবত বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা রকম আলোচনা সমালোচনা "টক দ্য কালিহাতী"তে পরিনত হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ ফেইসবুকে শেয়ার দেওয়ায় দায়ে উপজেলার পারখী ইউনিয়নের পারখী গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র শহিদ সিকদারকে কালিহাতী থানা পুলিশ আটক করেছ আদালতে প্রেরণ করেছে বলে চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশঃ কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ জেওএম তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে উৎকোচ, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।তার বিরুদ্ধে মানুষকে অহেতুক হয়রানি এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকায় স্থানীয়ভাব ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রকাশ ও ভূক্তভোগীদের দাবী, কালিহাতী থানায় জিডি বা মামলা করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া এলাকার বালু ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকে তিনি নিয়মিত উৎকোচ গ্রহন করেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে কালিহাতী থানায় কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায় না, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হয় সেবা গ্রহীতাদেরকে। এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা না দিলে তালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভূক্তভোগী জানান, একটি পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ মীমাংসা করতে গিয়ে এসআই এর মাধ্যমে ওসি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভূক্তভোগীকে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়।
আরেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওসি তৌফিক আযম স্থানীয় নিরপরাধ ব্যক্তিদের নানাভাবে হয়রানী করে অর্থ আদায়ে লিপ্ত রয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আটক না করে তাদের সাথে আর্থিক সমঝোতা করে নিরাপদে এলাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগের তীরও রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে।
এছাড়াও বল্লা, কোকডহরা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী, বাংড়া, দূর্গাপুর, দশকিয়া, নাগবাড়ী, সল্লা, নারান্দিয়া, গোহালিয়াবাড়ী ও পারখী ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ জেওএম তৌফিক আযমের নামে যেসকল ব্যক্তি ও স্থান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় তার একটি লম্বা তালিকা ও টাকা লেনদেন এর বিষয়ে একাধিক অডিও ক্লীপ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি জেওএম তৌফিক আযমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,একজন কনস্টেবলের কথায় আপনি আমাকে ফোন করেছেন! আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
যুবক আটকের বিষয়ে তিনি বলেন ,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে শহিদ সিকদার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :