আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরের কাহারোলে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাহারোল হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। বিশেষ করে মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে দিনভর কাহারোল পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার বিশাল সমাগমে পুরো হাট মুখর হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এ পশুর হাটে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ পশু কেনাবেচার জন্য ভিড় জমিয়েছেন।
এছাড়াও রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, সিলেট, নেত্রকোণা, শেরপুর, যশোর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, বগুড়া ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা কাহারোলের এ হাটে আসছেন কোরবানির পশু কিনতে। অনেক ব্যবসায়ীকে পশু কিনে ট্রাক ও পিকআপযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
প্রায় ২ থেকে ৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত কাহারোল পশুর হাটে শনিবার সকাল থেকেই বিক্রেতারা গরু ও ছাগল নিয়ে অবস্থান নেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের আনাগোনা। দুপুরের পর হাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে জমজমাট কেনাবেচা।
হাটে আসা অধিকাংশ ক্রেতাই মাঝারি আকারের গরুর খোঁজ করছেন। তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পশু পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। বিক্রেতারাও বলছেন, বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুই দ্রুত বিক্রি হচ্ছে।
গরু বিক্রেতা মো. মাইনুদ্দীন জানান, দুপুর ১২টার মধ্যেই তিনি ৭টির মধ্যে ৬টি গরু বিক্রি করেছেন। এতে তার প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। তিনি বলেন, “এবার মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারা দাম বুঝে পশু কিনছেন।”
আরেক বিক্রেতা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “আমরা চারজন মিলে ৮টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। সবগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা কম। তাই ক্রেতারাও দেখে-শুনে পছন্দমতো গরু কিনছেন।”
হাটে ঘুরে দেখা গেছে, দেশীয়ভাবে খামারে লালন-পালন করা গরুর সংখ্যা এবার বেশি। ফলে স্থানীয় খামারিরা ভালো বিক্রির আশায় বেশ সন্তুষ্ট। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কাহারোলের ঐতিহ্যবাহী এ পশুর হাটকে ঘিরে এখন পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে পশুর আমদানি ও ক্রেতাদের ভিড়।
আপনার মতামত লিখুন :