পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে কোরবানির পশুর আমদানি। তীব্র তাপদাহের কারণে শুরুতে হাট জমে না উঠলেও সোমবার (২৫ মে) কেশবপুর বড় পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে কেনাবেচা আরও বাড়বে এবং প্রায় ৩৯৮ কোটি টাকার পশু বিক্রি হবে।
উপজেলার কেশবপুর বড় হাট, সরসকাটি, সাতবাড়িয়া, বগা, শুড়িঘাটা, ভান্ডারখোলা ও মঙ্গলকোট পশুর হাটে এখন চলছে কোরবানির পশু কেনাবেচার ব্যস্ততা। স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি যশোর, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন। একইভাবে দূর-দূরান্তের ক্রেতারাও ভিড় করছেন এসব হাটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের গরু বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা দামের ছাগলও রয়েছে পর্যাপ্ত। বিভিন্ন জাতের গরু ও ছাগলের আকর্ষণীয় নামও রাখা হয়েছে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।
কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির উপযুক্ত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা রয়েছে ১৪ হাজার ৩৩১টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৩ হাজার ৪৫৯টি এবং ছাগল, ভেড়া ও মহিষ রয়েছে ১০ হাজার ৮৬৪টি। উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৬৫৯টি পশু রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব পশু বিক্রি থেকে প্রায় ৩৯৮ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।
তবে খামারিরা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গরু ও ছাগল পালন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে পশুর দাম আশানুরূপ নয়। ফলে অনেক খামারি লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
হাসানপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী ওজিয়ার রহমান ও বাউশলা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, এবার স্থানীয় জাতের গরু-ছাগলের আমদানি ভালো। কিন্তু দাম তুলনামূলক কম। তবে ভারতীয় গরু চোরাই পথে না আসায় দেশীয় খামারিরা কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রতাপপুর গ্রামের খামারি আব্দুল গফুর বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকার খাদ্য কিনে গরু পালন করতে হয়েছে। বাজারে গরুর দাম কম থাকায় লাভ খুব সীমিত।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের খামারি আবদুল সরদারও একই অভিযোগ করে বলেন, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ছাগল ব্যবসায়ীরাও বিক্রি কম হওয়ায় হতাশ। মনিরামপুর উপজেলার মাসনা গ্রামের ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন বলেন, “সকালে ৮টি ছাগল নিয়ে হাটে এসেছি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটি ছাগলও বিক্রি করতে পারিনি। তবে শেষ হাটে বেচাকেনা বাড়বে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার বলেন, কেশবপুর উপজেলায় অনেক ছোট-বড় খামারি রয়েছেন। তারা সারা বছর লালন-পালন করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশু প্রস্তুত করেছেন। তারা যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে ভবিষ্যতে পশু পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর আমদানি ভালো হয়েছে। ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ না থাকায় দেশীয় খামারিরা কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। কেশবপুরের বড় পশুর হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসছেন। হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :