‘পুলিশের চাকরি একটি বিজনেস’—কলমাকান্দা থানার ওসির বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ৩০ মে, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি:

নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে পুলিশের চাকরিকে ‘বিজনেস’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে রোলকল অনুষ্ঠানে দেওয়া তার একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১১ মিনিট ২৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই অডিও বক্তব্যে ওসি আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশের চাকরি একটি বিজনেস।” এছাড়া তিনি অধীনস্থ সদস্যদের অভিযোগ ও কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে অর্থ গ্রহণ এবং সেই অর্থের একটি অংশ তাকে দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বক্তব্যে কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার আহ্বান জানাতেও শোনা যায়।

এদিকে, কলমাকান্দা থানার ওসি আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে থানার কর্মকর্তা ও সদস্যদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি পুলিশ সদস্যদের ব্যারাক থেকে চারটি খাটিয়া নিয়ে নিজের বাংলোয় ব্যবহার করছেন। এছাড়া অফিসারদের কক্ষের ফ্যান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

এসব ঘটনায় থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা পুলিশের চাকরিকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিণত করার অভিযোগ এনে ওসি আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ রেঞ্জে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন ওসিকে বিভিন্ন থানায় পুনরায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিসের একজন এসআইকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ওসিকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুটি পৃথক অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করছে পুলিশ অধিদপ্তর।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-কে বলেন, “আমি এমন কোনো কথা বলিনি। ভাইরাল হওয়া অডিওটি আমার নয়। আমি এ ধরনের কথা বলতেই পারি না।”পরে তিনি সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপারের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Link copied!