কলমাকান্দায় দুই মাসে দুই ওসি প্রত্যাহার: ঘুষ কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের মুখে তদন্ত শুরু

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা থানায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে দুইজন অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রত্যাহার করার ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘুষ কেলেঙ্কারি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাবেক ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন এবং বর্তমান ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

জানা গেছে, অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অভিযোগ, ময়মনসিংহের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ফলেই কলমাকান্দা থানায় এমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

বিতর্কের মূলে আবুল হাশেম: 

সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ওসি মো. আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগের ফিরিস্তি দীর্ঘ। অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ নগরীর ৩ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত থাকাকালে ঘুষ দাবির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

এ ছাড়া হালুয়াঘাট থানায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এতসব অভিযোগ থাকার পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

সম্প্রতি তার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে থানা সদস্যদের ঘুষ গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা একে প্রশাসনিক তদারকির চরম ঘাটতি বলে মন্তব্য করেছেন।

এর আগের ঘটনা: 

এর আগে কলমাকান্দা থানায় চোরাই পথে আসা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়িয়ে নিতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এসআই মো. আবু হানিফাকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই তৎকালীন ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়ার পেমই পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ওসির বদলি মূলত রুটিনমাফিক একটি প্রক্রিয়া। প্রতি মাসে কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, কলমাকান্দা থানায় ওসি পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠা জেলা পুলিশ ও রেঞ্জ অফিসের তদারকি ও পদায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!