ফেসবুকে অপপ্রচার ও এআই প্রযুক্তিতে ভুয়া ছবি তৈরির অভিযোগে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে জিডি

জাহাঙ্গীর আলম তপু , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১ মে, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরি করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ক্যাশিয়ার ইমরান মেহেদী হাসান আরিফের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিডি সূত্রে জানা যায়, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর প্রধান সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক অভিযোগ করেন, ত্রিশাল পৌরসভার নওধার এলাকার বাসিন্দা ইমরান মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তিনি টাকার বিনিময়ে মো. আনিছুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে একাধিক ফেসবুক আইডি ও পেজ পরিচালনার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অপপ্রচারের কারণে তার সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত সুনাম ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনি ময়মনসিংহ আদালতে ইমরান মেহেদী হাসান আরিফসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর- ৩৪৯/২০২৬।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের নামে ভুয়া ও বিকৃত ছবি তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একইভাবে সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিককেও অপপ্রচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইমরান মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। মাগুরা জেলার শালিখায় চাকরিরত অবস্থায় এক নারীর কাছ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, চট্টগ্রামের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ সুরক্ষা আইনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

জিডিতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে মো. খায়রুল আলম রফিক বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

Link copied!