সরকারি অফিসের পিয়ন, অথচ দাপট দেখান ‘অ্যাডভোকেট’ পরিচয়ে! মানিকগঞ্জে আটিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক অফিস সহায়ক ওয়াসিম মিয়ার বিরুদ্ধে এতিম পরিবারের প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ঘরের লকার ভেঙে কাগজপত্র চুরি, জালিয়াতি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী এতিম তরুণ মোঃ টিপু রহমান। সরকারি চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ওই কর্মচারী এখন ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগির স্বজনেরা জানায়, ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের নারচী গ্রামের বাসিন্দা রাজিয়া বেগম গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মারা যান। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি তার এতিম নাতিকে নমিনি করে ঢাকার কলাবাগান এলাকার সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা এফডিআর করে রেখেছিলেন। তবে রাজিয়া বেগম বেঁচে থাকতেই এই টাকার খোঁজ পেয়ে যান অফিস সহায়ক ওয়াসীম মিয়া।
ভুক্তভোগী এতিম তরুণ টিপু বলেন, “আমার দাদী মারা যাওয়ার আগে আমার নামে ১৮ লাখ টাকার এফডিআর করে রেখেছিলেন। দাদীর মৃত্যুর পর ঘরের চাবি আটকে রাখা হয়। একদিন পর চাবি পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখি আলমারির লকার ভাঙা এবং দাদীর মোবাইলের অ্যাকাউন্টের সমস্ত তথ্য গায়েব। পরে কিছু ব্যাংকের কাগজপত্র উদ্ধার করে আমার দাদীর অফিসে ও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে জানতে পারি, ওই এফডিআরের ১৮ লাখ টাকা আমার নামে নমিনি করা ছিল। সেই টাকা আমার দাদীর একাউন্টে আসে পরে ১৮ লাখ আত্মসাৎ করে অফিস সহায়ক ওয়াসীম এখন ফেরত দেওয়ার নামে শুধু তালবাহানা করছে। আমি অভিযুক্ত ওয়াসিমের চাকরি থেকে বহিষ্কার ও কঠিন শাস্তি দাবি করছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ওয়াসিম দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রভাব খাটিয়ে এবং নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে অসহায় মানুষকে নানা কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন। সাংবাদিকদের কাছে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি নিজেকে অ্যাডভোকেট দাবি করে মানহানি মামলার হুমকি দেন।
তিনি বলেন, “ওরা গতকাল আমার নামে গ্রামে রোজ (সালিশ) দিয়ে এখন সাংবাদিকের কাছে গেছে। যদি কোনো প্রকার ভুল তথ্য ছড়ানো হয়, তাহলে আমি মানহানি মামলা দিবো, আমি নিজেও একজন এ্যাডভোকেট। ওর দাদী আমার ফুফু। টিপু রহমানের মাথা খারাপ হয়েছে, তাই উল্টাপাল্টা কথা বলছে।”
মানিকগঞ্জ জজকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি বিধিমালা (Government Servants Conduct Rules) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন অন্য কোনো পেশায় (যেমন ওকালতি বা আইন পেশা) যুক্ত থাকতে পারেন না এবং এমন পরিচয় বা দম্ভোক্তি প্রকাশ করা স্পষ্ট বিধি লঙ্ঘন ও অসদাচরণের শামিল। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ীও, সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি সক্রিয় আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারেন না।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএন) মোছাঃ মৌসুমী নাসরিন বলেন, ভুক্তভোগী কে অভিযোগ দিতে বলেন ওই অফিস সহায়ক ( পিয়ন) ওয়াসীম এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে নারচী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এতিমের ১৮ লাখ টাকা উদ্ধারসহ ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর বিভাগীয় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :