বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ

মোঃ আব্দুল মোমিন পিয়াস , বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম

বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের আইন উপদেষ্টা (জেলা ও দায়রা জজ) এম এ সাঈদকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযোগকারী বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলিমুদ্দিন হারুন। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বগুড়া পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন রাজিয়া সুলতানা। এমনকি ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আগেই হাট-বাজার ইজারা প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রম ও ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজিয়া সুলতানা বলেন, “বগুড়া পৌরসভার দায়িত্বে থাকাকালে আমি বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলাম। বিশেষ করে টেন্ডার ও নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম করতে না দেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ক্ষোভ তৈরি হয়। সেজন্য তারা অভিযোগ করতেই পারে। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”

উল্লেখ্য, বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণার আগে প্রায় ছয় মাস বগুড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন রাজিয়া সুলতানা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

 

Advertisement

Link copied!