ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন খাতের মতো পুলিশ বাহিনীতেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন সরকারের অধীনে পুলিশ প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনই একজন কর্মকর্তা হিসেবে আলোচনায় এসেছেন শেরপুর সদর থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক মামলায় পক্ষপাতমূলক ভূমিকা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯টি এবং জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রেকর্ড করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওইসব মামলায় বিএনপির ৪৮০ জন এবং জামায়াতের ১৭৮ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপির ২৬৫ জন এবং জামায়াতের ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারন সাধারন জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স অভিযোগ করেন, ওসি সোহেল রানার দায়িত্বকালীন সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় ও হয়রানি চালানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, “আমি ২০২৩ সালে বকশীগঞ্জ থানায় প্রায় ছয় মাস ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। পরে নালিতাবাড়ী থানার ওসি ছিলাম। আমার ভালো কাজের মূল্যায়ন করেই আমাকে শেরপুর সদর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
নিজের বাড়ির বিষয়ে তিনি জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার ঘাগড়া গ্রামে।
অন্যদিকে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমি এক মাস আগে শেরপুর জেলায় যোগদান করেছি। সাবেক পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম তাকে সদর থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করেছিলেন। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।”
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, সোহেল রানার পরিবার অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এছাড়া বকশীগঞ্জ থানায় তার পদায়নের পেছনে তৎকালীন এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বকশীগঞ্জের কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীর অভিযোগ, ওসি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মাদক ও চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, অবৈধভাবে আটক রেখে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা হলে জনমনে থাকা প্রশ্নের উত্তর মিলবে এবং পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আপনার মতামত লিখুন :