নথিতে ৩৩ বিভাগীয় শাস্তি, দুদকে ৩৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: একই জেলায় ১৬ বছর, বদলি হলেও যোগদান করেননি এসআই গাফফার

নিজস্ব সংবাদদাতা , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

নথিতে ৩৩ বিভাগীয় শাস্তি, দুদকে ৩৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ: একই জেলায় ১৬ বছর, বদলি হলেও যোগদান করেননি এসআই গাফফার

ফাইল ফটো

জামাল উদ্দিন খান (নরসিংদী থেকে ফিরে):

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই-নিরস্ত্র) মো. আব্দুল গাফফার (পিপিএম-বার)-এর চাকরিজীবনের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকরিজীবনে তিনি মোট ৩৩ বার বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন—যার মধ্যে ১টি গুরুদণ্ড এবং ৩২টি লঘুদণ্ড। 

একদিকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা, অন্যদিকে এক জেলায় ১৬ বছর অবস্থান করে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তাকে পুলিশ প্রশাসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

​চাকরির শুরু ও কর্মজীবন

​যোগদান: ১৯৯৮ সালের ২৫ মে কনস্টেবল পদে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ​পরিচয়: নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা, পিতা মো. হাফিজুল বেপারী। ​পদোন্নতি: দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ সেবার মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) পদে রয়েছেন।

​নরসিংদীতে দীর্ঘ অবস্থান: ২৮ বছরের চাকরিজীবনের প্রায় ১৬ বছরই তিনি নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন।

বদলি ও বর্তমান অবস্থা: 

​বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক কারণ ও জনস্বার্থে তাকে একাধিকবার বদলি করা হয়:​২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫: নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে প্রশাসনিক কারণে গাজীপুর জেলায় বদলি করা হয় (তবে তিনি সেখানে যোগ দেননি)।

​১৮ মার্চ, ২০২৫ – ৪ জানুয়ারি, ২০২৬: অন্যত্র দায়িত্ব পালন করেন।

​বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে গাজীপুর জেলার অপেক্ষমাণ (সংযুক্ত) ইউনিটে রয়েছেন।

​পূর্ববর্তী কর্মস্থল: নরসিংদী সদর থানা, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানা, কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনস ও রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ লাইনস।

​৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ : 

​দুদকে জমা পড়া এক অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন নরসিংদী জেলায় অবস্থান করার সুযোগে তিনি নামে-বেনামে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

​উপার্জনের উৎস: অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মাদক কারবারি ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আটক করার মাধ্যমেই এই অর্থের সিংহভাগ অর্জিত হয়েছে।

সম্পদের ধরন: নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পত্তি।

​অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নরসিংদী ডিবি ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা হয়রানিমূলক ব্যবস্থা এবং গায়েবি মামলা প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন।

​বিভাগীয় শাস্তি ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি কর্মজীবনে একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জন করেছেন: ​২০১৫ ও ২০১৬: জাতীয় পুলিশ সপ্তাহে পরপর দুইবার পেয়েছেন আইজিপি ব্যাজ।

​​অন্যান্য: রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রাপ্তির ধারাবাহিকতায় তিনি পিপিএম (বার) মর্যাদা অর্জন করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন। 

একদিকে ১টি গুরুদণ্ড ও ৩২টি লঘুদণ্ডসহ মোট ৩৩টি বিভাগীয় শাস্তির রেকর্ড, আর অন্যদিকে রাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ পুলিশ পদকপ্রাপ্তি—একই কর্মকর্তার চরিত্রে এই বিপরীতমুখী চিত্র পুলিশ বিভাগে এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!