আওয়ামী শাসনামলে ৪৫ মামলা, পরে ১৭ মাসে ১৫৯ অভিযোগ: তদন্তে অধিকাংশের সত্যতা মেলেনি

ফয়সাল হাওলাদার , সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ এএম

আওয়ামী শাসনামলে ৪৫ মামলা, পরে ১৭ মাসে ১৫৯ অভিযোগ: তদন্তে অধিকাংশের সত্যতা মেলেনি

ফাইল ফটো

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা মামলা, অভিযোগ ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়। 

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা আসারপর ১৭ মাসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ১৫৯টি অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে এসব অভিযোগের অধিকাংশই ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ষড়যন্ত্র ও হয়রানির অভিযোগ : 

মোঃ খায়রুল আলম রফিক দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক, সন্ত্রাস ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদনের কারণে একটি প্রভাবশালী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে হয়রানির চেষ্টা করে।

তিনি দাবি করেন, ১৭ মাসে দায়ের হওয়া ১৫৯টি অভিযোগের অধিকাংশই ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে দাখিল করা হয়।

অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে মামলার তথ্য: 

পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধেও অতীতে আইনি প্রক্রিয়ার তথ্য রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ জুলাই ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অশালীন ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে ময়মনসিংহের সাবেক ছাত্রনেতা রেজাউল করিম রেজা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ আদালতে মোঃ শহিদুল ইসলামসহ ৭০–৮০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এত বিতর্ক ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অবাধে যাতায়াত করে নামে-বেনামে বিপুল সংখ্যক অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যা বললেন অনুসন্ধানী মোঃ খায়রুল আলম রফিক: 

অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন,

“আমি আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তাই আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ, মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি আইনানুগভাবে মোকাবিলা করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি।”

নিজের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন,

“আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সাংবাদিকতা করেছি।

 গত ১১ বছরে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী আমলা ও বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে প্রায় ৯০০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় স্বর্ণপদকসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা অর্জন করেছি।”

তিনি আরও বলেন,“আমার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন ধারায় আমার বিরুদ্ধে ৪৫টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৪৪টি মামলা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। একটি মামলায় তিন বছরের সাজা হয়েছিল। 

এসব মামলার কারণে আমাকে ২১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে এবং প্রায় এক বছর কারাবন্দি থাকতে হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনবার পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি, এমনকি চোখ বেঁধেও নির্যাতন করা হয়েছে। তবে কোনো বাধাই আমাকে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় আমি পুলিশ প্রশাসন এবং সম্মানিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ধন্যবাদ জানাই।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান: 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বানোয়াট মামলা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিককে হয়রানি করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভয়ভীতি, মামলা বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া গেলেও তা চিরদিন গোপন রাখা সম্ভব নয়। সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার থাকাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। বর্তমানে মোঃ খায়রুল আলম রফিক জনপ্রিয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডি২৪লাইভ-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিয়াম সরিষা
Link copied!