ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. ইয়াকুব আলী মোল্লাকে সরানোর চক্রান্ত: জাতীয়তাবাদী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. ইয়াকুব আলী মোল্লাকে সরানোর চক্রান্ত: জাতীয়তাবাদী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা

ফাইল ফটো

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী মোল্লাকে সুকৌশলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল সক্রিয়ভাবে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের কারাবরণকারী ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই শিক্ষকনেতাকে অপসারণের যে কোনো উদ্যোগ জাতীয়তাবাদী মূল ধারার নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে। সুযোগসন্ধানীদের এই দৌরাত্ম্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিব্রত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত আত্মত্যাগের ইতিহাস:  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী মোল্লা ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেছেন। তিনি ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন ছাত্রদল ইবি শাখার সভাপতি ড. মো. আশরাফুর রহমান ( বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য) এবং সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৮৯ সালে কারাবরণ করেন। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানেও তাঁর ছিল বলিষ্ঠ অবদান।

পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি পড়ার টেবিলে ফিরে আসেন এবং অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসনামলে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে ফ্যাসিবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পরিচালক থাকাকালে ছাত্রশিবির কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন এবং তাঁকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

জুলাই আন্দোলন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট :  সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময়ও অধ্যাপক ড. ইয়াকুব আলী মোল্লা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা পালনে অনুপ্রেরণা জোগান। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন জামায়াত-সমর্থিত প্রশাসনের বিভিন্ন অন্যায় ও বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও তিনি জোরালো ও প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর এই নেতৃত্ব ও নৈতিক অবস্থানের ফলেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অন্যায়, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থাকার সুযোগ পেয়েছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতি স্মারকলিপি ও দাবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোসলেহ উদ্দিন মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ এবং সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর প্রেরিত আবেদনে বলা হয়েছে—ড. ইয়াকুব আলী মোল্লাকে পদ থেকে সরানোর চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টা প্রতিহত করে তাঁকে স্বপদে বহাল রাখতে হবে।

সরকারের উচ্চ মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা : রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, যখন দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখন একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ চরিতার্থ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চ মহলে ভুল তথ্য দিয়ে ড. ইয়াকুব আলী মোল্লার মতো সৎ ও ত্যাগী শিক্ষাবিদকে প্রো-ভিসি পদ থেকে সরানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এই চক্রান্ত সফল হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি করবে। তাই অবিলম্বে এই কুচক্রী মহলের অপতৎপরতা বন্ধ করে অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী মোল্লাকে প্রো-ভিসি পদে বহাল রাখার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মহলের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

সিয়াম সরিষা
Link copied!