পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য: ছাতকে বই পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা

নাজমুল হাসান জুয়েল , ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং একটি সুন্দর, মানবিক ও পরিচ্ছন্ন সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে ইতালি প্রবাসী তরুণ লেখক মাওলানা শামীম আহমদ রচিত “পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে আমাদের দায়িত্ব” গ্রন্থের পরিচিতি ও বিতরণ উপলক্ষে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কাজী রেজাউল করিম রেজা, সদস্য-সচিব মো. খালেদ মিয়া, আহবায়ক কমিটির সদস্য সাকির আমিন,  মুহাম্মদ নাজমুল হাসান জুয়েল, মোঃ ফজল উদ্দিন, সাংবাদিক মো. আক্তারুজ্জামান,  জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. মোশাহিদ আলী, মাহমুদ আলী, অজিত কুমার দাশ, ফারুক আহমেদ নোমান, আবুবকর চৌধুরী, দিলোয়ার হুসেন, মো. লোকমান হুসেন, পাপলু মিয়া, মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ঘাটতি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় অনুশাসন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তারা উল্লেখ করেন, সচেতনতামূলক বই ও সাহিত্য মানুষের চিন্তা-চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

বক্তারা আরও বলেন, একজন লেখকের সৃজনশীল লেখনী যেমন মানুষকে ইতিবাচক চিন্তার পথে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তেমনি গণমাধ্যমও সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে লেখক মাওলানা শামীম আহমদ তাঁর গ্রন্থ রচনার পটভূমি, উদ্দেশ্য ও সমাজ সংস্কারে লেখালেখির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানবিক গুণাবলির চর্চাই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য সমাজ নিশ্চিত করতে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে আমাদের দায়িত্ব” গ্রন্থে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। বইটি পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে গ্রন্থটির কপি বিতরণ করা হয়। এ সময় বইটি নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠানে সমাজ উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় লেখালেখি এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Advertisement

Link copied!