বিলুপ্তির পথে তৃণমূল, কংগ্রেসে যোগ দেবেন মমতা?

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য সমঝোতা কিংবা একীভূত হওয়ার গুঞ্জন। বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পর রাজনৈতিক চাপে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে অবস্থান করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়েও দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের ভেতরেই দেখা দিয়েছে মতভেদ। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা কংগ্রেসের অনেক নেতাকর্মী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতৃত্বে মেনে নিতে অনাগ্রহী। তাদের মতে, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের শাসনামলে ওঠা দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় কংগ্রেসের কাঁধে নেওয়া উচিত হবে না।

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। একই অবস্থান নিয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। তাঁর বক্তব্য, একসময় কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন আবার কংগ্রেস নেতৃত্বের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা কংগ্রেসে যোগ দিতে চান, তাদের রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিতে হবে। রাহুল গান্ধীকে দলের সর্বোচ্চ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে আগ্রহীদের স্বাগত জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ চাপ ও ভাঙনের আলোচনা যত বাড়ছে, ততই কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ বাড়ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দিল্লির ১০ জনপথে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর পরদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। ফলে তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Link copied!