দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা এবং দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার লক্ষ্যে ভাটিয়ারি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দেশীয় ফল উৎসব-২০২৬’।
মধুমাসের এ বর্ণিল আয়োজনকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় দেশীয় ফলের এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাজানো স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, আনারস, জাম, ডাব, কলা, জামরুল, তাল, সফেদা, লটকন, করমচা, পেঁপে, পেয়ারা, কামরাঙা, আমড়া, আমলকী, জাম্বুরা, ডেউয়া, খেজুর, গাব ও টেপাফলসহ অর্ধশতাধিক দেশীয় ফল স্থান পায়।
স্টলগুলোতে ফলের বাংলা ও ইংরেজি নামের পাশাপাশি পুষ্টিগুণ ও ভেষজ উপকারিতা সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ফল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল আজিম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ডেপুটি কমান্ড্যান্ট এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেজর মো. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, উপাধ্যক্ষ, কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বিভিন্ন ফলের স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, ভেষজ উপকারিতা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান যাচাই করেন এবং তাদের উৎসাহ ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, “দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সুস্থ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার আয়োজন। এতে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। আয়োজকরা জানান, দেশীয় ফলের পরিচিতি বৃদ্ধি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিলুপ্তপ্রায় ফল সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :