মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রামে এক গৃহবধূর পরকীয়া, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে চলে যাওয়া এবং পরবর্তীতে অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি অসহায় পরিবার। পরকীয়ার অভিযোগ ও দাম্পত্য কলহের জেরে ১২ বছরের সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর বিরুদ্ধে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালত ও থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বর্তমানে দুই নিষ্পাপ সন্তানকে নিয়ে ওই গৃহবধূ ও তার প্রেমিকের হুমকির মুখে দিশেহারা হয়ে স্বামী আদালত ও থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি শিবালয় থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পারিবারিক লোকজন ও স্থানীয়রা জানায়, শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আলম মিয়া (৩২) প্রায় ১২ বছর আগে হরিরামপুর উপজেলার বড়গোড়াইল গ্রামের সামেজ উদ্দিনের মেয়ে আশা আক্তার (২৬)-কে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ৯ বছর বয়সী কন্যা আলভি ও ৭ বছর বয়সী ছেলে আয়াত রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই আশা আক্তার পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। পাড়া-প্রতিবেশী ও পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ইতিপূর্বেও তিনি একাধিকবার দুই সন্তানকে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে অনিশ্চয়তায় মুখে ফেলে দিয়ে পৃথক দুটি বাড়িতে রেখে উধাও হয়ে যান তালাকপ্রাপ্তা নারী আশা আক্তার।
ইতিমধ্যে, স্বামী আলম মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে সন্তানদের এক সন্তানকে বাবার বাড়ি ও আরেক সন্তানকে মানিকগঞ্জ বোনের কাছে রেখে চলে যান আশা আক্তার। পরবর্তীতে আলম মিয়া ও তার পরিবার জানতে পারেন, আশা আক্তার তার ব্যবহৃত ‘ইমো’ নম্বরের মাধ্যমে ময়মনসিংহের এক পরকীয়া অজ্ঞাত এক প্রেমিকের সাথে যোগসাজশ করে আলম মিয়া ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধামকি প্রদান করছেন। পরকীয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এবং পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট হওয়ায় গত ১ জুন আশা আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক (ডিভোর্স) প্রদান করেন স্বামী আলম মিয়া। বিচ্ছেদের পর থেকে অভিযুক্ত নারী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের হুমকি আরও বেড়ে গেছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। বর্তমানে প্রাণভয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আলম মিয়া।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী স্বামী আলম মিয়া বলেন, "আমি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার (আশা আক্তার) পরকীয়া ও অনৈতিক আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত গত ১ জুন তালাক দিতে বাধ্য হয়েছি। তালাক দেওয়ার পরও সে এবং তার লোকজন আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার ও আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই।"
এদিকে, মায়ের পরকীয়া ও পারিবারিক এই চরম অস্থিরতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে দুই নিষ্পাপ শিশু। তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা উচিত যাতে নিষ্পাপ শিশু দুটি নিরাপদে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত আশা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শিবালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, "এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আপনার মতামত লিখুন :