বরিশালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো ১৬ বছর বয়সী সামিয়া আক্তার এখন কৃত্রিম পা দিয়ে আবার হাঁটার স্বপ্ন দেখছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই কিশোরী স্বপ্ন দেখেছিল অন্য মেয়েদের মতো স্কুলে হেঁটে যাবে, খেলাধুলা করবে। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় তার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।
এক পায়ে ভর করে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামিয়া এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তার বাবা একজন রিকশাচালক। দুই মাস আগে সমাজসেবার সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ সামিয়ার পা হারানোর খবর জানতে পারেন। এরপর তিনি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তরের দুই সমন্বয়কারীকে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে ছুটে যান।
তিনি সামিয়ার খোঁজ খবর নেন এবং মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন। উজ্জ্বল প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের মাধ্যমে তাকে একটি হুইলচেয়ার, শহর সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা এবং জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকার সহায়তা ব্যবস্থা করে দেন সমাজসেবার এই মানবিক কর্মকর্তা। সাজ্জাদ পারভেজ সামিয়ার জন্য বিআরটিএ-এর এককালীন অনুদানের জন্যও আবেদনের ব্যবস্থা করেছেন। এমন একজন মানবিক কর্মকর্তাকে পাশে পেয়ে সামিয়ার পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
এদিকে, বরিশাল জেলা সমাজসেবা অফিসের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ ইতিমধ্যে বরিশাল আঞ্চলিক সমাজসেবা কার্যালয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করেছেন। এই মানবিক কর্মকর্তা সামিয়ার খোঁজ নিতে তার বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের জানান যে সামিয়ার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—কৃত্রিম পা লাগিয়ে আবার নিজের পায়ে হাঁটবে। সামিয়ার এই স্বপ্ন পূরণ হোক, এমন প্রত্যাশা করেন বরিশাল আঞ্চলিক সমাজসেবার অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ।
আপনার মতামত লিখুন :