যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিকে ঘিরে ওয়াশিংটনে নেপথ্য তৎপরতা শুরু করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা করাতে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান প্রভাবিত করতে তিনি ব্যাপক লবিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর আশঙ্কা—ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তির শর্ত ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না। এ কারণে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও জনমতভিত্তিক চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছেন। এ কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং ইসরায়েলপন্থী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রচারণার অংশ হিসেবে ফক্স নিউজের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও ইসরায়েলপন্থী ভাষ্যকার মার্ক লেভিন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘অর্থহীন’ আখ্যা দিয়ে ইরানের জন্য প্রস্তাবিত পুনর্গঠন তহবিলকে ‘স্লাশ ফান্ড’ বা বিতর্কিত অর্থায়ন ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
একই সঙ্গে মার্কিন সিনেটে নিজের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটরদের মাধ্যমেও চাপ বাড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু। যদিও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তি নিয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন, তবু বিল ক্যাসিডির মতো প্রভাবশালী নেতারা এটিকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ভুল’ বলে সমালোচনা করে যাচ্ছেন।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েল এই চুক্তির সব শর্ত মানতে বাধ্য নয়। বিশেষ করে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিধানকে তেল আবিব নিজেদের নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের পরিপন্থী বলে মনে করছে।
তাই ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ডানপন্থী গণমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই লবিং প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো চুক্তিটিকে হয় দুর্বল করে দেওয়া, নয়তো ইসরায়েলের স্বার্থের অনুকূলে পুনর্গঠন করা।
আপনার মতামত লিখুন :