ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কালো তালিকাভুক্ত করার সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শিশুদের ওপর সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের ‘শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত’ (সিএএসি) বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শিশুদের বিরুদ্ধে ৩৮ হাজার ৫৫৮টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রভাব ফেলেছে ২৪ হাজার ১৭৪ জন শিশুর ওপর। ১৯৯৬ সালে এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ১৪ হাজার ২২৪ জন শিশু নিহত বা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছে। যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং পশ্চিম তীরে ৫৭ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, শিশু হতাহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে গুতেরেস বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের ব্যাপকতা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যার ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।
জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলে। এছাড়া গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার ও সোমালিয়াও এ তালিকায় রয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, শিশুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েল ইতোমধ্যে জাতিসংঘের তথাকথিত ‘লজ্জার তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে পৃথকভাবে ভবিষ্যৎ কালো তালিকাভুক্তির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালেও যদি একই মাত্রায় শিশুদের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে ৯ হাজার ৪৬৫টি ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ৩২৬টি ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।
জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী, গুরুতর লঙ্ঘনের মধ্যে শিশু হত্যা, অঙ্গহানি, যৌন সহিংসতা, শিশুদের জোরপূর্বক নিয়োগ এবং স্কুল ও হাসপাতালের ওপর হামলার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: রয়টার্স
আপনার মতামত লিখুন :