জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত না দিলে ডলারের প্রতি আস্থা কমবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ১০:২০ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়া উচিত। তার মতে, অন্য দেশের অর্থ দীর্ঘদিন আটকে রাখা হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডলারের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।

 

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৭ জুন) জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের অনেক অর্থ নিয়েছি এবং সেই অর্থ এখনো আমাদের কাছে রয়েছে। এটি আমাদের টাকা নয়, তাদের টাকা। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আমরা এটি জব্দ করেছিলাম। আমার মনে হয়, এখন তা ফেরত দেওয়া উচিত।”

 

ট্রাম্প আরও বলেন, “যদি আমরা সেই অর্থ ফেরত না দিই, তাহলে ভবিষ্যতে কেউই ডলারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না।”

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

 

সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পারস্পরিক সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতা করবে।

 

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অর্থ দিচ্ছি না। তারা যদি সঠিক পথে চলে এবং বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়, তাহলে বিনিয়োগ আসতে পারে। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিলও তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন তারা যথাযথ আচরণ করবে।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, “যে অঙ্কের কথা বলা হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।”

 

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি দায়িত্বশীল আচরণ করে, তাহলে ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে।”

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আওতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক একতরফা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

সূত্র: আনাদোলু

Link copied!