নরওয়ের রাজপরিবারকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দেশটির ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবিকে ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন অসলোর একটি আদালত।
সোমবার স্থানীয় সময় ঘোষিত রায়ে আদালত জানান, ২৯ বছর বয়সী হোইবি দুটি পৃথক ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন। বিচার চলাকালে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করলেও তুলনামূলক কম গুরুতর কিছু অপরাধের দায় স্বীকার করেছিলেন।
মারিয়াস বোরগ হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের ছেলে। ২০০১ সালে মেটে-মারিটের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের বিয়ের পর থেকেই তিনি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং জনপরিচিতি লাভ করেন।
টানা সাত সপ্তাহ ধরে চলা এই বহুল আলোচিত মামলায় হোইবির মাদকাসক্তি, ব্যক্তিগতভাবে ধারণ করা যৌন সম্পর্কের ভিডিও এবং ৮০০টিরও বেশি ইলেকট্রনিক বার্তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শুনানিতে রাজপরিবারের বাসভবনের বেসমেন্টে সংঘটিত একটি ধর্ষণের ঘটনাও উঠে আসে।
তবে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকছে হোইবির।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা নরওয়ের রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর আগেও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০০৮ সালে দণ্ডিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে এলে তিনি জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক এই রায়কে নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশটির রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
আপনার মতামত লিখুন :