পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি, বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

তিন মাসব্যাপী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সমঝোতায় পৌঁছাতে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

এ সংকট নিরসনে পাকিস্তান শুরু থেকেই সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যুদ্ধরত দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, তাদের এই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করেছে।

চুক্তির ঘোষণার পর জাতিসংঘ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের নেতা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা করেছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ চুক্তিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি শুধু যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কার্যকর রূপরেখাও তৈরি করবে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছে রিয়াদ।

কাতার পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেছে, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে এবং বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে নতুন সংলাপের পথ খুলে দেবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানও পাকিস্তানের ‘ব্যতিক্রমী মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য পাকিস্তান, কাতার এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানি ও নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বনেতাদের মতে, এই চুক্তি শুধু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, যা পরবর্তী শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করে।

Link copied!