চাঁদা দাবিতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ শ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:০৪ এএম

পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঁদার টাকা না পাওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং তার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রমিকদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি হোটেল ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্ত রিপন সরদার (৩৫) সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, বেড়া পৌরসভার সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিপণিবিতান নির্মাণ করছেন দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। গত ১৯ জুন রিপন সরদার কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদার ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে এসে মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজারে একটি কার্যালয়ে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের সময় ব্যবসায়ীর হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, মারধরের ফলে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, তাদের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে আলাদাভাবে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এর আগে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আবারও চাঁদার দাবি শুরু হয়। দাবি পূরণ না করায় তাকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর সহায়তায় একটি মুচলেকা নেওয়া হয়, যেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ ছিল। দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে চাপ সৃষ্টি শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে রিপন সরদার বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষ আগে তাকে মারধর করেছিল। চাঁদা দাবি কিংবা সোনার আংটি নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার সরকার জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মামলা গ্রহণ করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Link copied!