রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ৯ বছর বয়সী শিশু ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কিন্ডারগার্টেন শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে তারাগঞ্জ থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৯ জুন বিকেলে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরআনিপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় সানজিদা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি পাটক্ষেতের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে, শিশুটিকে অশ্লীল ভিডিও দেখিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভীমপুর কোরআনিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত সানজিদা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন :