নীলফামারীর জলঢাকায় পৌরসভার আওতাধীন একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় সফিকুল ইসলাম সোহাগ (৩৪) নামে এক যুবককে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, নির্মাণ কাজের অনিয়ম তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাথাভাঙ্গা এলাকাবাসীর ব্যানারে উপজেলা রোডের বাবুপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। বক্তারা জানান, শাহীন ডাক্তারের বাড়ি থেকে হাইয়ের মিল পর্যন্ত চলমান আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজে প্রকল্পের নির্ধারিত সিডিউল অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম সোহাগ। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুস সোলেমান অভিযোগ করেন, তার ছেলে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাস্তার কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন।
কিন্তু ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও কাজের মান ও উপকরণে ফাঁকিবাজি বন্ধ হয়নি। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ভায়া ঠিকাদার ময়নুল ইসলামের নেতৃত্বে চলমান আরসিসি ঢালাই কাজের অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোপালঝাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিএনপি নেতা গোলাম সারোয়ার ভুট্টু, রউফুল আলম ট্রলি বাবুসহ কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালিয়ে সফিকুল ইসলাম সোহাগকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। একই সঙ্গে ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুস সোলেমান বলেন, আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সড়কটির আরসিসি ঢালাই কাজে নির্ধারিত মানের রড, বালু, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কথা থাকলেও নিম্নমানের বালু ও পাথর ব্যবহার এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তার নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ এবং মারধরের ঘটনা, উভয় বিষয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সড়কের নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখারও দাবি জানান তারা। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন মঙ্গলবার দুপুরে চলমান সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সফিকুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন
আপনার মতামত লিখুন :