যশোরের কেশবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট দোরমুটিয়া এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এক নারী ও তার শিশু সন্তানদের ওপর হামলা, মারধর এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন সাবিনা ইয়াছমিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে সাবিনা ইয়াছমিন জানান, প্রতিবেশী মোঃ জাকারিয়া, খাদিজা বেগম, মর্জিনা বেগম, তহুরা খাতুনসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দেড় মাস আগে অভিযুক্তরা রাস্তার ওপর খুঁটি ও কাঁটা ফেলে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও জানান, গত ২০ জুন ২০১৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে তার ছেলে রিফাত হোসেনকে ডাকতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার চুল ধরে মারধর করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় ২ নম্বর অভিযুক্ত খাদিজা বেগম তার কোলে থাকা দুই বছর বয়সী শিশু কন্যা নুসরাতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার ওপর ছুড়ে ফেলে দেয়। এতে শিশুটির বাম চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ হয়। একই সঙ্গে তার প্রতিবন্ধী সন্তানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাবিনা ইয়াছমিন দাবি করেন, হামলার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন টেনে ছিঁড়ে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতরা কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা ইয়াছমিন প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :