নাঙ্গলকোট পৌরসভায় উন্নয়নহীনতার অভিযোগ, চুপিসারে বাজেট ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ না করেই চুপিসারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। গত অর্থবছরের বাজেটে ৪৭ কোটি ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা আয় এবং ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল, কিন্তু বাজেটে উল্লেখিত খাতগুলোর অধিকাংশেরই কোনো কাজ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ না জানিয়েই পুনরায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৯ কোটি ৬০ লাখ ৫৬৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ কোটি ৭৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫ টাকা এবং ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৬৮ টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে। বাজেট ঘোষণা করেন নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় এমন গুপ্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে করোনাভাইরাসজনিত দুর্যোগ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাজেট রাখা হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। এছাড়া বাজেটে রাস্তা নির্মাণ খাতে ১৬ কোটি, পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ খাতে ২ কোটি, পৌর এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন ড্রেন নির্মাণ, পরিষ্কার, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৬ কোটি ৬৫ লাখ, বাস টার্মিনাল নির্মাণ খাতে ২০ লাখ, পৌর এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে এই খাতে ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয় ১০ লাখ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ খাতে বরাদ্দ ১ কোটি ২০ লাখ, চিকিৎসাসেবাসহ গরিব দুঃস্থদের আর্থিক সাহায্য প্রদান খাতে ২ লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ বরাদ্দ ৩ কোটি, রাস্তা আলোকিতকরণসহ বিদ্যুতায়নে বরাদ্দ ১ কোটি ১০ লাখ, পৌর নাগরিকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য পার্ক ও সৌন্দর্য বর্ধন নির্মাণ খাতে বরাদ্দ ২০ লাখ, ইপিআই কার্যক্রমে ২ লাখ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনা নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন যাবৎ কাগজে-কলমে বাজেট হলেও উল্লেখিত খাতগুলোর কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌর নাগরিক সমাজ।

নাঙ্গলকোট পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৫০/৬০ ভাগ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে কোন খাতে কত কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে এবং সর্বমোট কত কোটি টাকা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। নাঙ্গলকোট পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Link copied!