মা ও তিন বোনকে হারিয়ে নিঃস্ব সিফাত

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে একটি পরিবার। সাত বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা কামাল হোসেনের মৃত্যুর পর মা শাহিনুর বেগমের স্নেহ-ভালোবাসা আর সংগ্রামের মধ্যেই বড় হচ্ছিলেন তিন মেয়ে ও একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে সেই পরিবারে নেমে আসে অকল্পনীয় বিপর্যয়। ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। বাসার বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান একমাত্র ছেলে সিফাত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সাইফুল ইসলাম মুরাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন সিফাত। প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, তার মা ও তিন বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। খবর শুনে ছুটে গিয়ে স্বজনদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখে ভেঙে পড়েন তিনি। বুক চাপড়ে তার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। পরে স্থানীয়রা তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন। সেই থেকে শাহিনুর বেগম একাই সন্তানদের নিয়ে সংসারের হাল ধরেন। বড় মেয়ে সায়মা ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী। মাধ্যমিকের পর রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যও চেষ্টা চালিয়েছিলেন। মেজো মেয়ে ইকরা স্থানীয় সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। ছোট মেয়ে শিফা পড়াশোনা করছিল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একমাত্র ছেলে সিফাতও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী হওয়ার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে একটি দোকানে কাজ করতেন।

সায়মার সাবেক সহপাঠী প্রমি আক্তার জানান, সায়মা অত্যন্ত মেধাবী ও স্বপ্নবান একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, বাবার মৃত্যুর পর শাহিনুর বেগম অসীম কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের মানুষ করছিলেন। সিফাতও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু আজ মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। তার নিকটাত্মীয়দের বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রতন মজুমদার (২৮) নামে এক যুবককে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

Link copied!