ইরানে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৪ এএম

সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরপরই আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে সমঝোতার ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, তেমনি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি ড্রোন হামলার শিকার হয়। যদিও এই হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তেহরান, তবে এর আগে ইরান তাদের অনুমতি ছাড়া ওই নৌপথ ব্যবহারের বিরুদ্ধে একাধিকবার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কোনো হামলা হলে তার জবাব হবে আরও কঠোর ও ভয়াবহ।

দুই পক্ষের এই সামরিক সংঘাতের ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কার্যকারিতা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে এখন উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে উদ্ধারের জন্য জাতিসংঘের পরিকল্পিত অভিযানও স্থগিত করতে হয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এর আগে যুদ্ধের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই পুরোনো শঙ্কাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে, নৌ-চলাচল সচল রাখতে ওমান একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ওমানের সরকারি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই করিডোর চালু করা হয়েছে। নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে এই করিডোর ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রেখে চলাচল করতে হবে।

Link copied!