মঠবাড়িয়ায় ট্রাকভর্তি সরকারি বই জব্দ, নতুন বই বিক্রির অভিযোগে তদন্ত শুরু

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম

সোহাগ ইসলাম , মঠবাড়িয়া : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই, পুরোনো পাঠ্যবই ও খাতাসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের উত্তর মিঠাখালী এলাকার আরাফাত মঞ্জিলের সামনে থেকে বইবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর মিঠাখালী এলাকার মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে বগুড়া ট্রান্সপোর্টের একটি ট্রাকে সরকারি বইগুলো তোলা হচ্ছিল। এ সময় এলাকাবাসীর দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, জাকারিয়া হাওলাদার নামে এক ফেরিওয়ালার কাছ থেকে এসব বই ও খাতা কেনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন ফেরিওয়ালার কাছ থেকে অল্প অল্প করে পুরোনো কাগজ, বই ও অন্যান্য মালামাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে ফেরিওয়ালা জাকারিয়া হাওলাদার জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি মঠবাড়িয়া সরকারি হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের কাছ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইসহ মোট ৫৮৭ কেজি সরকারি বই ও খাতা কয়েক হাজার টাকায় কিনেছিলেন। জাকারিয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকতার হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, তিনি শুধু কিছু পুরোনো বই দুইজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন।ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এখন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।"

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ জানান, জব্দকৃত ট্রাকটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি মোবাইল কোর্টের আওতাভুক্ত না হওয়ায় রোববার উপজেলা পুরাতন বই বিক্রি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, "বিদ্যালয়ে চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করা হয়, তাই অতিরিক্ত নতুন বই থাকার কথা নয়। যদি অতিরিক্ত বই থেকেও থাকে, তবে উপজেলা কমিটিকে অবহিত করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানাননি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

 

Link copied!