সিরাজদিখানে কৃষি সেবার সংকট, সার-বীজ প্রণোদনা নিয়েও অভিযোগ

আনিছুর রহমান রুবেল , ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

 

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার প্রান্তিক আখ চাষিদের অভিযোগ, তারা সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং সার বীজ বিতরণে অনিয়মের কারণে তারা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। সরেজমিনে উপজেলার একটি আখের মাঠে কথা হয় একাধিক কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, আখ আবাদের মৌসুমে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঠে খুব একটা দেখা যায় না।আগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে কিছুটা যোগাযোগ থাকলেও বর্তমানে সে ধরনের তদারকি নেই বললেই চলে।

 রশুনিয়া গ্রামের প্রবীণ আখ চাষি  দুলাল খান বলেন, “কৃষি অফিসাররা তেমন একটা আসে না। আগে গুদাম বাজারের ওখানে একজন ভাড়া থাকত, চেনা পরিচয় ছিল। এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। সরকার থেকে সার বীজ যা দেয়, তা যারা চাষাবাদ করে না তারাই পায়। আমরা পাই না। শুধু বন্যার পরে একবার ৫ কেজি ধান পেয়েছিলাম। মেম্বার চেয়ারম্যানরা আগেই ঠিক করে রাখে কাকে দেবে, তাই আমরা আর এসবের পেছনে যাই না।”

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হলেও প্রকৃত প্রান্তিক চাষিদের অনেকেই তা পান না। ফলে প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বাজার থেকে বেশি দামে কিনে উৎপাদন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে আখ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আজকে যারা এসেছে, তারা সবাই প্রান্তিক কৃষক। তারা নিজেরাই এসে যার যার সার ও বীজ নিয়ে যাচ্ছে। আপনি যেহেতু বিষয়টি জানিয়েছেন, আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। কোনো কৃষক একবার সরকারি প্রণোদনা পেলে একই সুবিধা বারবার পান না। তবে যিনি প্রাপ্য, তিনি অবশ্যই সরকারি প্রণোদনা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সহযোগিতা করবেন। কৃষি অফিস কৃষকদের জন্যই। কোন ইউনিয়নে কৃষকরা পরামর্শ পাচ্ছেন না, সেটি তদন্ত করে দেখব। আমি এখানে নতুন এসেছি, তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখব। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমিও নিয়মিত মাঠে যাব। সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই, যাতে কৃষকরা সর্বোচ্চ সেবা পান।”

তিনি বলেন, “আমি এখানে সপরিবারে থাকব। তাই দিন বা রাত, শুক্র বা শনিবার কোনো বিষয় নয়। কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় আমরা পাশে থাকব। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি কর্মকর্তার এই আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে এবং প্রকৃত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় কৃষি সেবা যথাসময়ে পাবেন।

 

Link copied!