রমজান আলী রানা, কোম্পানীগঞ্জ : ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন এক প্রবাসী দম্পতি ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরিফা। গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন। তাকে উদ্ধার করে রোমের জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইতালীয় পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত অয়নকে হাসপাতালে পাঠায়।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিল। কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
নিহত আরজুর ছোট ভাই নুরুল হুদা রাকিব জানান, “কিছুদিন আগেই বাবুলসহ পরিবারের সদস্যরা ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। আমার ভাগ্নে আরাফাত হোসেন অয়ন এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
আপনার মতামত লিখুন :