ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাটে আলোচিত প্রবাসীর স্ত্রী কাজল আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে র্যাব। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দুঃসম্পর্কের ভাগিনা আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের দাবি, মাত্র ১৫ হাজার টাকার কিস্তির ঋণের চাপ থেকে মুক্তি পেতে দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে আরিফ। ডাকাতির সময় বাধার মুখে পড়ে গৃহবধূ কাজল আক্তারকে হত্যা করে সে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ফেনীতে র্যাব-৭ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। র্যাব জানায়, নিহত কাজল আক্তারের স্বামী কুয়েতপ্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিল অভিযুক্ত আরিফ। সম্প্রতি কিস্তির ঋণের চাপ বাড়তে থাকায় সে অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গভীর রাতে টিনের চাল কেটে গোপনে ঘরে প্রবেশ করে।
ঘরে প্রবেশের পর কাজল আক্তার বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আরিফ ধারালো অস্ত্র দিয়ে গৃহবধূকে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন বলে জানায় র্যাব।
হত্যাকাণ্ডের পর ভোরে ফজরের নামাজের জন্য এলাকাবাসী ঘর থেকে বের হতে শুরু করলে পাশের বাড়ির বাসিন্দা কুলসুমা আক্তার কাজলের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় কাজল আক্তারকে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় অভিযুক্ত আরিফ ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রবাসীর স্ত্রীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। র্যাব জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্ত আরিফকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তারা জানান, আরিফ স্বীকারোক্তিতে বলেছেন যে, প্রায় ১৫ হাজার টাকার কিস্তির ঋণ পরিশোধের চাপ থেকেই তিনি ওই বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেছিলেন। ডাকাতির সময় বাধা পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
এদিকে, ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। অনেকেই এটিকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :