বরগুনার বেতাগী উপজেলার একটি নূরানী মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মুহাসিন হাসান ওরফে আব্দুর রহিমের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বেতাগী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। শুনানি শেষে বিচারক মো. আনোয়ার হোসেন মামলার নথিপত্র, এজাহার এবং ভুক্তভোগী শিশুর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি পর্যালোচনা করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল বেতাগী উপজেলার চার নম্বর মোকামিয়া ইউনিয়নের একটি নূরানী মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত এক শিশুশিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার পরিচালক ও সেক্রেটারি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক অতীতেও অন্য শিশুদের সঙ্গে একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন নামে শিক্ষকতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং তিনি নির্দোষ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে জামিনের বিরোধিতা করে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :