জামাল উদ্দিন খান ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের পর শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ। ইতোমধ্যে ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে। এরপর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদীর একটি বাঁকে স্থানীয়দের তল্লাশিতে নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। রাতেই দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পরিবার পুলিশকে অবহিত করে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়ার পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে অগ্রগতি এনে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনার মাত্র ৯ দিনের মধ্যে ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচিত এ মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান সরাসরি মামলাটির তদারকি করছেন। সাক্ষীদের নিরাপদে ও সময়মতো আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ময়মনসিংহ জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকি বলেন, "মাত্র ৯ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। আশা করছি, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে বিজ্ঞ আদালত অল্প সময়ের মধ্যেই রায় প্রদান করবেন।"
ময়মনসিংহের সিনিয়র সাংবাদিক হাফিজুর রহমান বলেন, "এ ধরনের চাঞ্চল্যকর মামলায় এত দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"
তবে আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগোলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার সব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই এ মামলার চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :