কুলিয়ারচরে চেকপোস্ট ভেঙে পালানোর চেষ্টা, পুলিশের ধাওয়ায় ধরা পড়ল ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার মাদকদ্রব্য গাঁজা

মোঃ নাঈমুজ্জামান নাঈম , নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

মধ্যরাতে চারদিকে যখন নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হয় পুলিশের বিশেষ অভিযান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত চেকপোস্ট, পালিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা, কয়েক কিলোমিটার ধাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অভিযুক্তকে আটক। কুলিয়ারচর থানা পুলিশের এই সফল অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার ২৪ কেজি গাঁজা, জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।

বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে আটককৃত মাদক কারবারিকে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।  আটককৃত ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গতরাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন এর নেতৃত্বে এসআই সুজন বিশ্বাস একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলা ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশও থেমে থাকেনি। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ধাওয়া। একপর্যায়ে ঢাকা মেট্রো-ন ১২-০৩৬৬ নম্বরের পিকআপটি বাজরা বাসস্ট্যান্ড মাছ আড়তের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর পিকআপটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয় এবং মো. ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও জব্দকৃত পিকআপ ভ্যান পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। যাহার মামলা নং-৩, তারিখ-১/৭/২৬ । এ বিষয়ে কুলিয়ারচর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তিনি।

কুলিয়ারচরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে একের পর এক মাদক উদ্ধার এবং কারবারিদের আইনের আওতায় আনছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের এমন ধারাবাহিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।

Link copied!