দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত সাইকেল নাতিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে কেনা সাইকেল, ছাগল, স্প্রে যন্ত্র, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইলচেয়ার প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে না পৌঁছে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের স্বজনদের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলামের নামে বরাদ্দ হওয়া একটি সাইকেল তিনি নিজেই মাস্টাররোলে স্বাক্ষর করে তুলে নেন। পরে সেটি নিজের মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে সেই সাইকেল তাঁর নাতনিকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম জানায়, তার নামে বরাদ্দ হওয়া সাইকেল প্রথমে তাকে দেওয়া হয়নি। তার জন্মনিবন্ধনের কাগজ ব্যবহার করে সাইকেলটি তুলে নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বুধবার তড়িঘড়ি করে সাইকেলটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য (ঝিনাইদহ-৩) মতিয়ার রহমানের নির্দেশে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মাওলানা তাজুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাইকেলটি ফেরত দিতে বাধ্য হন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাইকেলটি প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে নতুন করে তুলে দেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এডিপির আওতায় বরাদ্দ হওয়া সাইকেল, সেলাই মেশিন ও স্প্রে যন্ত্রের একটি অংশ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের স্বজনদের মধ্যেও বিতরণ করা হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, সাইকেলটি প্রথমে তাঁর প্রতিবেশী এক ছেলেকে দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর মেজো ছেলে বেকার ও আর্থিক সংকটে থাকায় সেটি ছেলের মেয়েকে দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের লোকজনই এসব সরকারি সামগ্রী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সহ-অধ্যক্ষ ও জামায়াতের সাবেক নেতা শের আলী বলেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম কোনোভাবেই দরিদ্র নন। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, শহরে তাঁর নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং সন্তানরাও প্রতিষ্ঠিত। দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত সাইকেল কৌশলে নিজের স্বজনকে দেওয়া একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগের পর সেটি ফেরত আনা হয়েছে। এখন যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে সাইকেলটি তুলে দেওয়া হবে।

Link copied!