গৌরীপুরে সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে পিটিয়ে হত্যা: থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

 মো. বিল্লাল হোসেন মানিক: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মানিক মিয়া (৪০) নামে এক সাবেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতাসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাতে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জীবিকার তাগিদে পালকি গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল রাত প্রায় ১১টার দিকে গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানিক মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সতিশা রোড এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরিবারের সদস্যদের খবর দিয়ে আহত অবস্থায় রেখে চলে যান অভিযুক্তরা।

নিহতের ছোট ভাই সুখ মিয়া জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণেও বিভিন্ন সময়ে তারা নানা চাপের মুখে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। গুরুতর আহত মানিক মিয়াকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সুখ মিয়া আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত’ হিসেবে উল্লেখ করতে বাধ্য করা হয়। তিনি প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। তবে ভর্তি নথিতে কেন সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি-সংক্রান্ত নথিতে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুয়েব মুন্সি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয় বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এদিকে, গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

Link copied!