জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।এতে করে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন তাঁর নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে গত ২ জুলাই রুলের ওপর শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
আদালতে সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট তাঁর প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।
এ আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখলেও রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে সরোয়ার আলমগীর বিজয়ী হন। তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে তাঁর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং শপথ গ্রহণও স্থগিত ছিল। পরবর্তীতে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর আজ হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায়ে সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের এ রায়ের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি জটিলতার অবসান হলো। এখন নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর শপথ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হলো। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীলের কথা জানান আইনজীবী শিশির মনির।
আপনার মতামত লিখুন :