কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেকের অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চান্দিনা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রওশন আরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩২ বছরেরও অধিক সময় অত্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষা বিস্তারে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি অবসরে যান। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, মো. আব্দুল খালেক স্যার শুধু একজন প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষাগুরু। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল কাশেম, সফিউল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন মুন্সি, অ্যাডভোকেট এ এস এম সাইফুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন মামুন, ইয়াসিন মুন্সী, মোতালেব হোসেন, মোস্তফা কামালসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিদায়ী বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক স্যার বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা আজীবন মনে রাখব। সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিরা তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় জানান। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মী প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা মো. আব্দুল খালেকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর অবসরজীবন কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন :