সকল উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হবে, বসবে ডায়ালাইসিস সেন্টার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র এবং আধুনিক রোগ নির্ণয়াগার স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর উত্থাপিত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে তিনি সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৩০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে সেসব হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখন দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বভিত্তিক ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে এ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি ১০১ শয্যার হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক রোগ নির্ণয়াগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য গ্রামীণ জনগণকে আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নতুন রোগীবাহী যান সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর ১০০টি হাসপাতালে ১০০টি নতুন রোগীবাহী যান দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১০ ও ২০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার করে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও শয্যা নিশ্চিত করার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু তাঁর উত্থাপিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। এর আগে প্রস্তাবের ওপর অংশ নেওয়া আরও ১০ জন সংসদ সদস্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানান।

 

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে জেলা পর্যায়ের ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

Link copied!