ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুলাই, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ১৯৭২ সালে স্বাক্ষরিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে ২০১৫ সালে নবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের বাজারে তামাক ও মাদকজাতীয় ২৫টি পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য যৌথ সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর সুপারিশের ভিত্তিতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উভয় দেশ বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করেছে।

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ১১ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতের বাজারে ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা, আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা।

তবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু অশুল্ক বাধা এখনো রয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব বাধা দূর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ, বাণিজ্য সচিব পর্যায় ও যৌথ কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা এবং বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব এমন পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার নীতি অনুসরণ করছে সরকার। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Link copied!